মনের অজান্তে
শিরোনাম -মনের অজান্তে
✍মিতা সিনহা
শিশু থেকে একদিন আমরা যুবতী হয়ে উঠি!
মালতী হয়ে কিংবা বকুল চাঁপার মতো নিজের সব গন্ধ বিলিয়ে দি অপরের লাগি।
নিজের কথা ভাবিই না-
পৌষের রোদের যে কি অনুভূতি ,
সেটা হয়তো বোঝার মতো সময় হয়ে ওঠে না।
কখনো হেমন্তের সকালে আকাশের বুক চিরে বেরিয়ে আসা সেই সোনালী রোদের ডানাকে ছুঁয়েও দেখি না!
সময় কোথায় আমাদের?
তখন আমরা ব্যস্ত উনুনে আগুন জ্বালাতে,
ঐ টুকুই আমাদের পৃথিবী।
কখনো কৃষ্ণচূড়া কিংবা পলাশের রং মাখি না গায়ে কিংবা ভোরের শিশিরের জলে পা ভেজাই না,
কুয়াশার চাদর সরিয়ে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ মাঠের মাঝে হলদে রঙের সরষে ফুলে প্রজাপতি হয়ে ঘুরে বেড়াই না।
সমুদ্রের সামনে বসে কখনো তার কথা জানতে চাই না,
তার কিসের এতো দুঃখ? কেনো সে এতো উত্তাল? কেনো সে হয়ে ওঠে ভয়ঙ্করী?
কেনো সে কারো কিছু নিজের কাছে রাখতে চায় না সব ফিরিয়ে দেয়।
সমুদ্রের ফেনা কখনো দুহাত ভরে সারা অঙ্গে মেখে ও নি না!
তার সঙ্গে ভেসে যেতে পারিনা কোনো অচেনা দেশে!
এভাবেই যৌবন পেরিয়ে একদিন বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যাই,
তখন বিস্তীর্ণ শরীর মনের এলাকা জুড়ে একাকী হয়ে পড়ি!
আর সেই একাকীত্ব অনেক সময় নিজের মনের অজান্তে বন্ধুত্বের হাত বাড়ায়,
পিছু ফিরে না তাকিয়ে আমরাও সেই হাত ধরে ফেলি মনের অজান্তে।
তখন হয়তো জীবনটাকে রাঙিয়ে তুলতে ইচ্ছে করে,
ডানা মেলে উড়ে যেতে ইচ্ছে করে সুনীল আকাশে।
হাটা শুরু করি গন্তব্যহীন এক অচেনা কুয়াশামাখা শিশির ভেজা ভোরের রাস্তায়।
নরম ঘাসে শিশিরবিন্দুর অপরূপ শোভা দুচোখ ভরে উপভোগ করি।
রচনাকাল -২২/১০/২০২১
© সংরক্ষিত

Comments
Post a Comment